![]() |
| অর্পুণ ভালোবাসা |
আমি বজ্জাত।মানে লোকে আমাকে বলে,তয় আমি তো জানি মুই একখান ভালা পোলা।আসলে আমার ডাক নাম এইটা তবে মা রাখছে সোহাগ।আদর কইরা নাম টা সোহাগ রাখলেও সারাদিন কেলানি আর ঝাড়ির উপর রাখে কেন রাখে সেইটা আমি বুজিনা।কি এমন করি যে সারাদিন আমাকে ঝাড়তে হবে।সেই দিন সবাই মামিদের বাসায় বেড়াইতে গেছিল শুধু
আমি আর আমার বোন ফারজানা বাসায় ছিলাম।২জন ২ রুমে টিভি দেখছিলাম পরে মনে হইলো আমার বোন বাথরুমে তাই তাড়াতাড়ি গেলাম দেখতে,যাইয়া দেখি আমার ভাবনাই ঠিক আমি বাহির থেকে দরজা লাগিয়ে দিলাম।বাছ আমার কাজ শেষ,দরজা লাগিয়ে বাহিরে চলে গেলাম।তখন বিকাল ৫টার মত বাজে হবে।আমি গেলাম বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে যাওয়ার সময় দেখা হইলো জমির চাচার সাথে।উনার বাসা আমদের বাসার পাশেই।আমি উনাকে দেইখা বলতে লাগলাম
।
।
আমি:জমির চাচা আপনি এখন এই খানে।
জমির চাচা:ওই ছাগল আমি কেমনে তোর চাচা লাগি,তোর বাপরে আমি আংকেল ডাকি তুই আমাকে চাচা বলছ কেন(আচ্ছা আমার কি দোষ আপনারাই বলেন উনার পেট সামনে আইসা পড়ছে ৩মিটার,মাথার মধ্যে একটা মাঠ বানিয়ে রাখছে,দেখলেই মনে হবে আমার বাবার চাইতে ১০ বছরে বড় তাই তো আমি চাচা ডাকি,তবে তার বউ কে ভাবি ডাকি
)
আমি:এইসব বাদ দেন,তাড়াতাড়ি বাসায় যান যাইয়া দেখেন ভাবির শরীর ভাল না,অনেক মানুষ জমে গেছে বাসার সামনে।তাড়াতাড়ি যান।এইডা কি হইলো একটা ধন্যবাদ তো দিব এমন একটা খবর দিলাম,ধন্যবাদ না দিয়েই চলে গেছে।আচ্ছা যাই হোক আমি যাই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে।একা একা যাইতাছি ভালো লাগবেনা তাই এই সুযোগে আমার পরিচয় টা দিয়ে নেই।আমি সোহাগ,ইন্টার পরিক্ষা দিলাম কিছু দিন আগে রেজাল্ট দেয় নাই এখন সারাদিন বাসায় ই থাকি আর এডমিশনের জন্য প্রস্তুতি নিতাছি।আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী সারাদিন বিজি থাকে।আর মা তো আরো বেশি বিজি সারাদিন ঘরের কাজ আর সেই সাথে আমাকে কেলানি এত কিছু করলে একটা মানুষ কি ভাবে ফ্রি থাকে আপনারাই বলেন তো একবার?যাই হোক আপনাদের অনেক ধন্যবাদ আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতেই আমি আইসা পরছি আমি লেংটা কালের,জানের জান,প্রানের প্রান বন্ধু লিমনের বাসায়।
,
, অর্পুণ ভালোবাসা
,লিমন,ওই লিমন বাইর হো বাসা থেইকা তাড়াতাড়ি আয় ওই লিমন।ওর তো দেখি কোন সাড়া শব্দ নাই বন্ধুর আমার কি হইলো ভাবতেই কান্না পাইতাছে আমার।চল্লিশার দাওয়াত দেয় নাই সেই দুঃখে।ওই যে আইতাছে আমার বন্ধু, না তাইলে বন্ধু আমার বাইচাঁ আছে।ওরে নিয়া গেলাম একটা লেকের কাছে,যাইয়া ২জন মিল্লা অনেক গল্প করলাম।আমি আর ওয় ছোট বেলা থেকে এক সাথে পড়ি।লিমন আমার বন্ধু না লিমন হইল আমার ভাই।কিন্তু হালায় একটা বজ্জাত আমারে বাশ দেওয়ার লাইগা সবসময় সদা প্রস্তুত থাকে।ওর সাথে আড্ডা দিতে দিতে যে কখন ৭:৩০ বাইজা গেছে বুঝলাম না।তারপর ২জন বাসার উদ্দেশ্যে গেলাম।যখন জমির চাচা মানে জমির ভাইয়ের বাসার সামনে গেলাম তখনি উনার সাথে দেখা।ভাবলাম আমারে বুজি ধন্যবাদ দিব এইবার।তবে আমার ধারনা ভুল উনি চিল্লানি শুরু করে দিছে কারন উনার বউয়ের আসলে কিছুই হয়নাই।জানেন ই তো আমি ভালা পোলা আর এই সব ভালা কাম রগে রগে মিশে আছে তাইলে আপ্নারাই বলেন আমি কেমনে এমন কাজ থেকে বিরত থাকি।উনি অনেক সময় চিল্লাই লো এইটা নতুন কিছুনা প্রায় সময় ই আমি এমন ভালা কাম করি আর চিল্লানি শুনি,অনেকে পারলে মারতেও আসে।যাক এইবার জমির চাচা তার বাসায় গেল আমিও আমার বাসায় যাইতাছি।আহ কি যে ভাল্লাগতাছে বাসায় আইসা।যেই রুমের দিকে যামু তেমনি মনে হইলো কেউ আমার কলারটা ধরে রাখছে,পিছনে তাকিয়ে দেখি মা।আমি বুজতেছিলাম না আজকে আবার কি করলাম আমি।মা গো ও মা আমি আবার কি ক,,যেই এই টুকু বলছি এখনি একটা শব্দ হইলো ঠাস।আমার বোনও তো দেহি মায়ের পিছনি তবে ওর হাতে ঝাড়ু কেন সেইটা আমি বুজতাছিনা।কিছু বুঝার আগেই বোনও দেখি আমাকে ঝাড়ু দিয়া কেলাইতাছে।কিছুই বুঝলাম না কি হইতাছে আমার সাথে।মা আর বোন ২জন মিল্লা চিল্লাইতাছে।প্রায় ৩০মিনিট চিল্লাইলো।তারপর যে যার ঘরে চলে গেল,আর আমি সেই জায়গায় দাড়িয়েই ভাবতেছি আমি আবার কি করলাম,কিছু সময় পর মনে হইল যাওয়ার সময় তো আমি আমার বোন কে বাথরুমে থাকা অবস্থায় বাহির থেকে দরজা লাগিয়ে দিছিলাম।কিন্তু বোন আমার বাহির হইলো কি ভাবে।মনে হয় মা-বাবা বাসায় আইসা খুলছে।আর সেই কামের লেইগা আমারে এমন কইরা কেলাইলো।এই সামান্য কারনে কেউ এমন করে কাউ কে মারে।রাগে কিটিমিটি করতে করতে নিজের রুমে গেলাম।তারপর কিছু সময় ফেসবুক চালাইলাম উড়া ধুরা।কিছুসময় পর মায়ের ডাক পড়লো খাওয়ার জন্য।আমিও খাইতে গেলাম তাড়াতাড়ি,ক্ষিধায় পেটে কুটুমুটু করতাছে।বাহ আজকে তো ভালোই রান্না করছে দেখা যায়,ইচ্ছা মত খাওয়া দিলাম।খাওয়া শেষ করে আবার আমার রুমে চলে গেলাম।আমার কপাল টা অনেক ভাল বাবা নাকি মামিদের বাসা থেকে আইসাই আবার চলে গেছে অফিসে কি নাকি জরুরি কাজ আছে।বাবা থাকলে আজকে আমি হসপিটাল থাকতাম এখন।নিজের রুমে যাইয়া আবার ফেসবুকে লগ ইন করলাম,কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বুঝতে পারিনি।
.
. অর্পুণ ভালোবাসা
.
দেখতে দেখতে অনেক টা দিন কেটে গেল।আমার রেজাল্ট ও দিয়ে ফেলছে।সবার দোয়ায় আমি ভালোই রেজাল্ট করলাম।আর একটা ভাল ভার্সিটিতে চান্স পাই আমি আর আমার বন্ধু লিমন।আমি প্রথম ১মাস ভার্সিটিতে যাইতে পারি নাই কলেজে।বাবা ব্যবসার কাজে একটু বাহিরে গেছিল তাই আমি বাবার অফিসে গিয়েছিলাম।অনেক ব্যাস্ত ছিলাম একটা মাস।বাবা আজকেই আসলো আমি কালকে ভার্সিটি যাব।আহ এক মাস পরে ভার্সিটি তে যাব আমি।লিমন কে সকালে কল দিলাম,কিন্তু লিমন বললো ও নাকি আজকে ভার্সিটি যাইতে পারবেনা।কি আর করার নিরাশ হয়ে আমি একাই গেলাম।এত দিন পর ভার্সিটি যাইতাছি তাই একটু ভয় ভয় লাগতাছে।বুকে থু থু দিয়ে নিলাম যা হবার হবে।যেই ভার্সিটির গেইট দিয়ে ঢুকতে যাব ওমনি কারোর সাথে ধাক্কা।এইবার মেজাজ টা খারাপ হয়ে গেল আমার।রেগে কিটিমিটি করতে করতে তাকালাম,তাকিয়ে তো আমি পুরা থ।এইটা কে,কোন পরি কি ভুল করে আমাদের ভার্সিটি তে এসে পড়ছে এই সব ভাবতে লাগলাম।আর আমি তো তার দিকে তাকিয়েই আছি,মনে হচ্ছে সে চেঁচামেচি করতেছে তবে আমি কিছু শুনতে পাইতেছিনা।তার কিছু সময় পর আমার হুস হল একি সে তো আরো আগেই চলে গেছে।ধুর কখন চলে গেল সেই পরীটা।দেখাও যাচ্ছে না মনে হচ্ছে তার ক্লাসে চলে গেছে।আমিও যাই আমার ক্লাসে প্রথম দিন তাই রুম খুজতে কষ্ট হলো একটু।শেষ পর্যন্ত আমি আমার ক্লাস রুমটা খুজে পেলাম।রুমে ঢুকে তো এইবার আমার অনেক বড় একটা টাস্কি খেলাম।যেই মেয়েটার সাথে ধাক্কা লেগেছে সেই মেয়েটা আমাদের ক্লাসে।ভাবতেই খুশিতে গদগদ হয়ে গেলাম।পুরাটা ক্লাস আমি তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।সত্যি ই সে যেন একটা পরী।প্রথম দেখাতেই আমি তার প্রেমে পড়ে গেলাম।যখন ক্লাস শেষ হয় তখন আমি মেয়েটার সামনে গেলাম।গিয়েই বললাম
আমি:I love you
মেয়েটি:পাগল নাকি কোথা থেকে যে আসে এই সব পাগল ছাগল যতসব
আমি:প্রথম দেখায় আমি তোমার প্রেমে পড়ে গিয়েছো গো রুপসি,না বল না আমাকে আমার মত একটা ছেলেও পাইবানা তুমি কুপি দিয়া খুজলেও
মেয়েটি:ঠাস,তারপর সে চলে যেতে লাগলো।আমি তাড়াতাড়ি দৌড়ে তার কাছে গেলাম,গিয়ে বললাম আচ্ছা তোমার নাম কি বললা না তো রুপসি।মেয়েটি এইবার হেব্বি রাগ করছে,রাগ করলে মেয়েটাকে অনেক কিউট লাগে।আরো বেশি সুন্দর লাগে তাকে।সে রাগে আবার জানি কি সব বলছিল আমি কানের ভিতর একটা কথাও ঢুকতেছিল না।আমি শুধু তাকে দেখতেছিলাম।কিছু সময় পর মনে হল কেউ সানজিদা,সানজিদা বলছে ।এই শব্দে আমার হুস হল।দেখলাম মেয়েটির সাথে আমার রুপসি চলে গেল।তার মানে তার নাম সানজিদা।তারপর বাসায় চলে গেলাম।সারাটা রাস্তা আমি সানজিদার কথা ভেবেছি।চাইলেও তাকে ভুলে থাকতে পারছিনা।তাকে দেখার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি।না এই মেয়ে তো আমাকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে।আমি বাসায় গিয়ে তাড়াতাড়ি আমার প্রানের বন্ধু কে কল দিলাম,মেয়েটার কথা বললাম শুধু নামটা বলা হয় নাই।ওর সাথে কথা বলে আমি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলাম।তারপর আবার লিমন কে কল দিলাম জিজ্ঞাস করলাম কাল কখন যাবে কিন্তু সে যা বললো তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না সে নাকি ২ মাস আসবেনা।কি এক সমস্যা।ধ্যাত এইবার মেজাজ টা খারাপ হতে শুরু করল।কি মনে করি জানি আমার বোনের রুমে গেলাম,গিয়ে দেখলাম শুয়ে আছে,মেজাজ টা খারাপ ছিল তাই সব রাগ ওর উপর ঝাড়লাম।ওর মেকাপ বক্স নিলাম।তারপর ওরে সুন্দর করে সাজাইলাম।এখন একটু ভাল লাগতাছে,তারপর আমার রুমে আইসা শুয়ে ছিলাম।কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানিনা।ঘুম ভাঙলো একটা চিৎকারে।গিয়ে দেখি আমি বোন টা কান্না করতাছে।ঘুম থেকে উঠে যখন আয়নায় নিজেকে দেখে তখন নাকি ভয় পেয়ে যায়।এখন আবার আমার উপর দিয়ে তুফান গেল।কি যে করি ধুর কিচ্ছু ভাল লাগছেনা আর।সারা রাত সানজিদার কথা ভেবেই কাটিয়ে দিলাম।একটুও ঘুমাইতে দেয়নি মেয়েটি।আজকে আমি সবার আগে ঘুম থেকে উঠলাম,উঠবো কি আমি তো ঘুমাইতেই পারিনি।সকালে তাড়াতাড়ি খেয়ে দেয়ে ভার্সিটিতে চলে গেলাম।ভার্সিটি গিয়েই সানজিদা কে খুজতে লাগলাম।কোথায় গেলো মেয়েটা অনেক খুজার পর মহারানিকে পাইলাম।সানজিদা,ওই সানজিদা বলে ডাকতে লাগলাম,সে পিছন ফিরে তাকালো আমাকে দেখে আরো জোরে জোরে হাটঁতে লাগলো।আমি দৌড়ে ওর কাছে গেলাম।
আমি:I love you
সানজিদা:I just hate you
আমি:but I love you
সানজিদা:আমি just আপনাকে hate করি।আপনি আমাকে দয়া করে আর ডিস্টাব করবেন না প্লিজ।
আমি:ওকে তুমি যা বলবা তাই হবে, আমি তোমাকে আর ডির্স্টাব করবো না।আগে একবার ভালোবাসি বল।বলতে দেরি ঠাস শব্দ হইতে দেরি হলো না।আমি বুজিনা লোক গুলার কি লজ্জা শরম বলতে কিছু নাই,এইটা আমার আর সানজিদা ব্যাপার উনারা দেখে হাসঁবে কেন যত্তসব।তারপর সানজিদা ক্লাসে চলে গেলো,আমি গেলাম ক্লাসে।আজকেও সারাটা ক্লাস আমি সানজিদা কে দেখছি।এই মেয়েটা সত্যি ই আমাকে পুরো পাগল বানিয়ে ছাড়বে।এই ভাবে ২টি মাস কেটে গেল,এই ২ মাসে এমন একটি দিনও যায়নি যেই দিনটিতে আমি সানজিদা কে I love you বলিনি।আর নিয়ম করে প্রতিদিন তার হাতে চড় খাইনি আমি।মেয়েটা কি বুজবেনা আমি তাকে কতটা ভালোবাসি?নাকি সে অন্য কাউ কে ভালবাসে?কিচ্ছু জানিনা আমি,আমি শুধু এইটা জানি আমি সানজিদা কে ছাড়া কিছু কল্পনা করতে পারবো না।সানজিদা শুধু আমার।এই ২ মাসে যেমন নিয়ম করে সানজিদার হাতে চড় খেয়েছি তেমনি নিয়ম করে আমার বন্ধু কে প্রতিদিন কল দিয়ে বলতাম সানজিদার কথা।সব ই বলতাম শুধু নাম ছাড়া।লিমন অনেক বার জানতে চেয়েছে নাম,আমি বলিনি কারন মেয়েটা আমাদের ক্লাসের।নাম বললেই লিমন চিনতে পারবে,আর চেয়েছিলাম লিমন কে সারপ্রাইজ দিতে।
।
অর্পুণ ভালোবাসা
।
আজ ২ মাস পর আমি আর আমার বন্ধু ভার্সিটি তে যাইতেছি।সারাটা রাস্তা আমি সানজিদার কথাই বলেছি,হঠাৎ লিমন বললো দোস্ত আজকে আমিও তোকে একটা সারপ্রাইজ দিবো।আমি বললাম কি সারপ্রাইজ দোস্ত তাড়াতাড়ি বল।সে বললো ভার্সিটি আয় তারপর দিতেছি তোকে সারপ্রাইজ টা চল।তারপর ২জন ভার্সিটি চলে গেলাম।সানজিদা কে অনেক খুজলাম কিন্তু পেলাম না।মনে হয় আজকে আসেনি।এখনো আমি সানজিদার নামটি বলিলি।তারপর আর কি আমি বললাম দোস্ত আমি তরে কালকে দেখাবো তাকে,এখন তোর সারপ্রাইজ টা দে।
।
লিমন:দোস্ত আসলে আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি,আমাদের ক্লাসের।প্রথম দিন তার সাথে আমার পরিচয় হয়।আর আমি তার প্রেমে পড়ে যাই কিছুদিন পর তাকে প্রপোজ করলে সে রাজি হয়ে যায়।আমি তাকে অনেক ভালোবাসি দোস্ত।তো..
আমি:তাকে কিছু বলার সুযোগ দিলাম না আর ধুপ ধাপ কয়েকটা লাগাইয়া দিলাম,শালা আমাকে একটা দিনও বলে নাই।আরো কয়টা দিয়ে জিজ্ঞাস করলাম নাম কি
লিমন:ওর নাম সানজিদা,আমাদের ক্লাসে পড়ে।বলেই তার ফোন টা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো এই যে দেখ ওর পিক।আমি ওর কথা শুনে কিছু সময় এর জন্য থমকে গেলাম।মনে হল আমি জমে গেছি।আমার কান কে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।না এইটা হইতে পারেনা কখনো।ভয়ে ভয়ে আমি ফোন টার দিকে তাকালাম।তারপর আর কিছু বলতে পারবো না।আমি নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম।আমি নাকি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।মা কাদঁছে,আমার পাশে বসে।লিমনও পাশেই।তারপর লিমন জিজ্ঞাস করলো কি হয়েছে তোর হঠাৎ করে কি হয়েছে তোর।আমি কি বলবো বুজতে পারছিনা।অনেক কষ্ট হচ্ছে আমার।আমি কিছু ভাবতে পারছিনা।আমার বন্ধু সানজিদা কে ভালোবাসে।না না আমি সানজিদা কে ভালোবাসতে পারিনা,সানজিদাও যখন লিমন কে ভালোবাসে আমি ওদের মাঝে আসতে পারবো না।কিন্তু সানজিদা কে ছাড়া তো আমি থাকতে পারবো না।কি করব এখন আমি।এই সব ভাবছি তখনি আবার লিমন বলে উঠলো কি হয়েছে তোর বল?
আমি বললাম আরে তেমন কিছুনা।শরীর টা খারাপ হয়ে গেছিল।আচ্ছা দোস্ত অনেক সময় হয়েছে তুই এখন বাসায় যা নয়তো সবাই টেনশন করবে আর আমিও এখন অনেক টা সুস্থ আছি।তখন লিমন চলে গেল।আমারও শরীর ভাল লাগতেছিল তাই সন্ধ্যায় বাসা চলে গেলাম।বাসায় এসে নিজে রুমে শুয়ে আছি,রুমটাও অন্ধকার।চোখ দিয়ে পানি পড়ছে চাইলে আটকিয়ে রাখতে পারছিনা।আমাকে শক্ত হতে হবে,আমি ওদের মাঝে আসতে পারবো না।তাই সিদ্ধান্ত নিলাম।আমি কানাডা চলে যাব,সেখানে বাবার ব্যবসা আছে।সেখানেই পড়ালেখা করব।সেই দিন কখন যে আমি ঘুমিয়ে গেলাম আমি জানিনা।তারপর সকালে বাবা-মা কে বললাম আমি কানাডা চলে যাব।আমার কথা তে কেউ রাজি হচ্ছিল না অনেক জোড়াজোরির পর রাজি করলাম।কাল আমার ফ্লাইট।ভাবছি শেষ বারের মত সানজিদা কে দেখে আসবো।না আমি তাকে দেখব না যদি আমি দুর্বল হয়ে পড়ি।আমাকে পারতেই হবে।আজকের দিন টা কাটিয়ে দিলাম,লিমনের সাথে কথা হয়নি আমার।অনেক বার কল দিয়েছিল রিসিভ করিনি।রাত টা না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম।আজ চলে যাচ্ছি,কষ্ট হচ্ছে না আমার।কেনই বা কষ্ট হবে আমার বন্ধু ভাল আছে,সানজিদা ভাল আছে তাহলে তাদের খুশিতে কি আমি খুশি থাকতে পারবো না?হে আমি অবশ্যই পারব।ভাল থাকুক তারা,ভালো থাকুক তাদের ভালোবাসা।আমি আমার রুপসি কে আর একটি বারের জন্য ও দেখতে পারব না,ও সরি সে তো এখন আর আমার রুপসি না।সে লিমনের সানজিদা।সে আমার বন্ধুর ভালোবাসা।একটি বারের জন্য ও কি আমার কথা সোনিয়ার মনে পড়বে না?এখন কাকে সে চড় মারবে?এই সব ভাবতে ভাবতে আমি এসে গেছি অনেক দূরে অন্য একটা দেশে।এই দেশে আসছি বছর হয়ে গেল।বাবা-মা অনেক বলছে ফিরে যাইতে আমি যাইনি।এই কয়েক বছরের মধ্যে আমি সানজিদা কে একটি বারের জন্য ও ভুলতে পারিনি।শুনিছি সানজিদা আর লিমন নাকি বিয়ে করেছে।লিমন অনেক বার বলেছে আমাকে দেশে ফিরে আসতে কিন্তু ইচ্ছা থাকার পরেও আমি যাইনি।আমার রিকুয়েস্ট এ আমার পুরো পরিবার কানাডা তে এসে পড়েছে।এখন আর তেমন একা লাগেনা নিজেকে সাথে আমার পরিবার আছে।সব ঠিক হয়ে গেছে এখন শুধু সেই বজ্জাত ছেলেটা এখন নীরব হয়ে গেছে।


0 Comments
please do not inter any spam link in tha comment box.